২০১৮ তে বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে আলোচনায় ছিল যেসব গাড়ি I

Sharing is caring!

অর্থনীতিতে দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান বাংলাদেশ অটোমোবাইল ও মোটর শিল্পে চমকপ্রদ উন্নতি দেখিয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে হয়ত এই শিল্প এখনো আহামরি কোন আকার নিতে পারেনি কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি বিশাল নিদর্শন তো অবশ্যই। বর্তমান রেকর্ড অনুসারে দেশে এখন প্রতিদিন ৭০টি গাড়ি বিক্রি হচ্ছে এবং পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে গাড়ি বিক্রির পরিমান প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে।

গাড়ি বিক্রির পরিমানের সাথে বাজারে নিত্যনতুন গাড়ির সমাগমও চোখে পড়ার মত। আজকে কথা বলবো এই সময়ের আলোচিত বাজারে নতুন গাড়ির আপডেট নিয়ে।

সম্প্রতি আওডি কিউ সিরিজের নতুন দুটি গাড়ি বাংলাদেশের বাজারে উন্মুক্ত করেছে। এই গাড়ি দুটির মডেল হল আওডি-কিউ২ এবং আওডি-কিউ৫। আওডি সাধারনত বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাণে সুপরিচিত। বাংলাদেশের প্রোগ্রেস মোটর ইম্পোরটস লিমিটেড আওডি গাড়ির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। নতুন মডেলের এই গাড়ি দুটি প্রোগ্রেস মোটরের তেজগাঁয়ের শো-রুমে পাওয়া যাবে। গাড়ি দুটিই বেশ বিলাসবহুল এবং কিছুটা দামিও। আওডি-কিউ২ এর দাম রাখা হয়েছে ৬৬ লক্ষ টাকা। আওডি-কিউ৫ এর দাম এর দ্বিগুনেরও বেশি অর্থাৎ ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা। গাড়ি দুটির যে কোনটি কিনতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে প্রোগ্রেস মোটরের তেজগাঁয়ের শো-রুমে। গাড়ি দুটির দাম নিঃসন্দেহে অনেক বেশী তবে দামের সাথে সমঞ্জস্য রেখে এদের পারফর্মেন্সও দারুন। আওডি কিউ২ মডেলের গাড়িটির সৌন্দর্য চোখে পড়ার মত। গাড়িটি প্রথম দেখাতেই আপনার পছন্দ হবে বলে আশা করা যায়। গাড়িটির বিশেষ ফিচারগুলোর মধ্যে যা রয়েছে সেগুলো হলঃ

লোকেশন ডিসপ্লে,

অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম,

গাড়ির দৈর্ঘ্য ৪.১৯ মিটার এবং ওজন ১ হাজার ২০৫ কেজি।

লোকেশন ডিসপ্লে ফিচারটির জন্য গাড়িটি যেখানেই থাকুক তার অবস্থান জেনে নেয়া যাবে। ৯৯৯ সিসি’র এই গাড়িটিতে রয়েছে ১১৬ হর্স পাওয়ার। প্রতি লিটার তেলে এই গাড়িটি ১৯ কিলোমিটার পথ চলতে পারবে।

আওডি-কিউ২ এর মত আওডি-কিউ৫ এরও কিছু দুর্দান্ত ফিচার গাড়িটিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। এগুলো হলঃ

হাই পাওয়ার স্ক্রীনসহ অপশোনাল আওডিও ভার্চুয়াল ককপিট, হেড আপ ডিসপ্লে, উন্নত MMI টাচ।

গাড়িটিতে রয়েছে ২৫২ হর্স পাওয়ার। গাড়িটির মাইলেজও খুব চমৎকার। প্রতি লিটার তেলে ২০০০ সিসির এই গাড়িটি ১০ কিলোমিটার পথ চলতে পারবে। এত কিছু ছাড়াও আপনাকে আকর্ষণ করার জন্য এই গাড়িটিতে রয়েছে আরামদায়ক লেদার সিট, ম্যাট্রিক্স LED হেডলাইট, লাগেজ ও অন্যন্য ব্যাগ রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এছাড়াও আরো অনেক চমৎকার ফিচার আছে।

এই ছিল ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আগত সর্বশেষ গাড়ির খবর। এবার চলুন দেখি দেশে সবচেয়ে বিক্রিত ও জনপ্রিয় গাড়ি ছিল কোনগুলো:

১। টয়োটা করোলা আমাদের দেশে গাড়ির ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে টয়োটার একচ্ছত্র আধিপত্য বিদ্যমান। সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী টয়োটা করোলা সর্বাধিক বিক্রিত গাড়িগুলোর একটি। এই গাড়িটি আমাদের দেশে সর্বপ্রথম উন্মুক্ত হয় ১৯৬৬ সালে। তখন থেকে এ পর্যন্ত এই গাড়িটির জনপ্রিয়তার কোন কমতি নেই। প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন এই গাড়িটি।

২। টয়োটা নোয়াহ এই গাড়িটি আমাদের দেশের রাস্তায় ব্যাপকভাবে চলমান বড় আকারের মাইক্রোবাস। ২০১১ সালে গাড়িটি দেশে উন্মোচনের পর নানা মডেলের নোয়াহ দেশের রাস্তা দখল করেছে এবং এখুনো তার জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রয়েছে। আপডেট মডেলের নোয়াহ গাড়ির জন্য আপনার ২০ লক্ষ টাকা বাজেট রাখতে হবে।

৩। মিতসুবিশী পাজেরো ১৯৮২ সালে এই বিলাসবহুল গাড়িটি দেশে উন্মুক্ত হয়। গাড়িটি বিলাসবহুল হওয়ায় উচ্চবিত্তদেরই বেশী ব্যবহার করতে দেখা যায়। বর্তমানে এই গাড়িটি কেনার জন্য ৯০ লক্ষ টাকা বাজেট রাখতে হবে।

৪। টয়োটা এলিয়ন দেশের মাটিতে চলমান আরো একটি জনপ্রিয় বিলাসবহুল গাড়ি টয়োটা এলিয়ন। ২০০১ সালে এই গাড়িটি আমাদের দেশে আসে। একে নিজের করে পেতে চাইলে ১৫ লক্ষের বেশী বাজেট রাখতে হবে।

৫। টয়োটা এক্সিয়ো/প্রোবক্স/ফীল্ডার টয়োটার এক্সিয়ো, প্রোবক্স এবং ফীল্ডার, এই গাড়ি ৩টি জনপ্রিয়তার প্রতিযোগীতায় সবার শীর্ষে। ১০লক্ষ থেকে ১৭ লক্ষ টাকার মধ্যেই এই মডেলের গাড়িগুলো পাওয়া যাবে।

এই ছিল আজকের নতুন ও জনপ্রিয় গাড়ির খবরাখবর। যারা বাজারে নতুন গাড়ির আপডেট জানতে আগ্রহী তাদের আশাকরি কিছুটা হলেও কাজে আসবে আজকের প্রতিবেদনটি।

— মিসঃ আইভি রাহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares