সিএনজি রিটেস্টিং করা কেন প্রয়োজন I

Sharing is caring!

রাস্তায় চলা বেশির ভাগ যানবাহন সিএনজি চালিত।সিএনজি সাশ্রয়ী এবং সুবিধাজনক বলেই সবাই ব্যবহার করে।কিন্তু একটি সিএনজি সিলিন্ডারের মেয়াদ থাকে ৫ বছর বা তার কম।৫ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যদি কোন ব্যক্তি সে সিলিন্ডার ব্যবহার করে,তাহলে বলা যায় তিনি নিজের সাথে বোম নিয়ে ঘুরছেন।কারন একটি সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ হলেই তা ব্যবহার উপযোগী থাকে না এবং তা যত দ্রুত সম্ভব বদলে নিতে হবে।নয়ত যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নিউজ দেখি সিলিন্ডার বিস্ফোরনে আহত হয়েছে,সেগুলো আসলে এধরনের মেয়াদত্তীর্ণ সিলিন্ডারের কারনে।তাই জেনে নেওয়া উচিত কেন আপনার সিলিন্ডার রিটেস্ট করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সারা বাংলাদেশ জুড়ে ৮০% যানবাহনগুলো নির্ধারিত সিএনজি সিলিন্ডার পরীক্ষা ছাড়াই কাজ করছে। রক্ষণাবেক্ষণের এই অভাব মৃত্যু ও আঘাতের গুরুতর ঝুঁকিতে গাড়ির মালিক এবং যাত্রীদের উভয়কেই রাখে।

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব-

বেশির ভাগ সিএনজি কারগুলোতে দূর্ঘটনার প্রধান কারণ আগুন।গাড়ি নিয়মিত অন্তর অন্তর চেক করা উচিত।আর সিএনজি সিলিন্ডার নিয়মিত কিছুদিন পর পর চেক করা উচিত।এতে করে কোন সমস্যা যদি থেকে থাকে গাড়িতে বা সিলিন্ডারের তাহলে তা ধরয়া পরবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।

মালিক এর রক্ষণাবেক্ষণের অভাব অনেক ক্ষেত্রে গাড়ির মালিক এসব বিষয় পর্যবেক্ষন করেন না এবং কোন ধরনের গুরুত্ব দেন না।ফলে গাড়ির ড্রাইভারও বিষয়টি আমলে নেন না।যার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।আবার অনেক সময় গাড়ির মধ্যে ধূমপান, জ্বলন্ত উপকরণ বহন, গাড়ীর কাছাকাছি ক্র্যাকার গুলিবর্ষণ এধরনের ঘটনার ফলেও দুর্ঘটনা ঘটে।তাই গাড়ির মালিক পক্ষকে অবশ্যই এই বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে।

সিএনজি রিপেয়ার-

কিছু গাড়ির মালিক তাদের গাড়ির সঠিক ভাবে রক্ষনাবেক্ষন করেন না আবার কিছু ক্ষেত্রে রাস্তার পাশের অনভিজ্ঞ বিক্রেতার কাছ থেকে গাড়ি ঠিক করে নেন বা সিলিন্ডারের কোন সমস্যা হলে তাদের কাছে নিয়ে যান।ফলে তারা হয়তো সমস্যা ঠিক ভাবে বুঝতে পারে না এবং নিজেদের ইচ্ছা মত সিএনজি তে নিম্নমানের এবং অনুপযুক্ত যন্ত্রাংশ ফিটিং করে দেন।যার কারনে বিভিন্ন সময় সিলিন্ডারের সংস্পর্শে এসে আগুন লেগে যায় বা সিলিন্ডার ব্ল্যাস্ট হয়ে যায়।

আনুষাঙ্গিক ব্যবহার করুন

সিএনজি ব্যবহার করার সময় বিভিন্ন আনুষাঙ্গিক উপাদান ব্যবহার করুন।অভিজ্ঞ ব্যক্তির মাধ্যমে জেনে নিন কিধরনের আনুষাঙ্গিক ব্যবহার করা উচিত বা ব্যবহার করলে সুবিধা হবে।অথবা অভিজ্ঞ বিক্রেতার কাছে বা রিটেস্ট করে এধরনের জায়গায় গিয়ে গাড়িতে সেট করে নিতে পারেন।

গ্যাস লিকেজ –

অনেকগুলো কারণে সিএনজি ফুটো হতে পারে জ্বালানি ট্যাংক, অনুপযুক্ত ফিটিং এবং সময়ের সাথে ধীরে ধীরে ফুটো হওয়ার কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে।লিকেজ হওয়ার সর্বোত্তম সমাধান অবিলম্বে এটি সনাক্ত করা এবং তারপর অনুমোদিত পরিষেবা কেন্দ্র থেকে সমস্যা সংশোধন করা।প্রতিনিয়ত রিটেস্টের মাধ্যমে এধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

কিভাবে নিরাপদ থাকা যায়?

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাস গ্যাস লিমিটেড সিএনজি চালিত অটোমোবাইলগুলোতে দুর্ঘটনার সুযোগ হ্রাস করার জন্য নিম্নোক্ত নিরোধক পদ্ধতির কথা জানিয়েছে।

নিশ্চিত করুন যে গাড়িতে সিএনজি সিলিন্ডার ইনস্টল করা হয়েছে তার সময়কাল তিন বছর।

যেকোনো পরিস্থিতিতে ২০০ বারের অনুমতিপ্রাপ্ত সর্বাধিক চাপের বাইরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন না।

গাড়িতে সিএনজি কিট রাখবেন এবং সিলিন্ডার কোনও অ-অনুমোদিত রাস্তার পাশের আউটলেট থেকে ইনস্টল করবেন না।

প্রাসঙ্গিক মান অনুযায়ী তৈরি অনুমোদিত ব্র্যান্ড, আমদানিকৃত ব্র্যান্ড বা নতুন সিএনজি সিলিন্ডার ব্যবহার করুন।

সিএনজি সিলিন্ডার পরীক্ষার সার্টিফিকেট আছে এধরনের সিএনজি স্টেশন বা লাইসেন্স আছে এধরনের জায়গা থেকে সিলিন্ডার রিটেস্ট করুন।

এসকল বিপদ এড়িয়ে চলতে হলে নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ির সিএনজি সিলিন্ডার রিটেস্ট করতে হবে।কোন সমস্যা হলে তা গুরুত্বের সাথে সমাধান করলে নিজের জীবন সাথে অন্যের জীবন বেঁচে যাবে।তাই যতটা সম্ভব সিলিন্ডার রিটেস্ট করা উচিত সঠিক সময়ে।সঠিক সময়ে রিটেস্ট না করার ফলে অনেক মারাত্নক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।তাই নিজে সর্তক থাকুন অন্যকে নিরাপদ রাখুন।

—- মেকানিক মামা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares