যানজট সমস্যা সমাধানে এগিয়ে চীন I

Sharing is caring!

প্রায় ১৫০ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন।আর জনসংখ্যা যেখানে সবচেয়ে বেশি যানজট সমস্যা সেখানে থাকবেই। শুধু জনসংখ্যাই নয় চীনের যানজট বৃদ্ধির একটি কারণ এর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। জনসাধারণের মাথাপিছু আয় বাড়ার ফলে বাড়ছে পরিবহণ সংখ্যা।

আর সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যানজটময় শহরের তালিকায় রয়েছে চীনের বেশ কয়েকটি শহর। যার মধ্যে চীনের রাজধানী বেইজিং একটি। বেইজিংকে বলা হয় যানজটের “পোস্টার বয়”। এখানে জ্যামের হার প্রায় ৪৬%। এছাড়া সাংহাই, শি’য়ান, গোয়াংজু ও জিনান চীনের অন্যতম যানজট প্রবণ শহর। পরিশ্রমী চীনা নাগরিকদের কর্মব্যস্ত দিনে এই যানজট বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে।

সময়,শ্রম ও অর্থ নষ্ট করছে। তাই যানজট নিরসন করতে চীনা সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আর তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কাজে লাগানো হচ্ছে চীনের প্রযুক্তিখাতকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার চীন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে এখানে বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানাও। শহরগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট। এই সমস্যা সমাধান করতে এক অভিনব পন্থা বের করেছে চীনা সরকার। নাগরিকদের বাইসাইকেল চালাতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। শহরের বড় বড় রাস্তাগুলোতে বাইসাইকেল চালানোর জন্য আলাদা লেন রয়েছে। এই সুযোগে বিভিন্ন কোম্পানিও বের করছে বাইসাইকেল রাইড শেয়ারিং এ্যাপ। এই পদ্ধতি একই সাথে যানজট এবং বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও চীনের সাধারণ জনগণকে আগ্রহী করা হচ্ছে গণ পরিবহনের প্রতি। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি করা হয়েছে একই সাথে ৩০০ যাত্রী বহন করতে সক্ষম পৃথিবীর দীর্ঘতম বাস। এই একটি বাসেই তিন থেকে চারটি বাসের সমান যাত্রী চলাচল করা সম্ভব। আরও রয়েছে বিশ্বের দ্রুততম ম্যাগলেভ ট্রেন যার গতি ঘন্টায় ২৬৬ কিলোমিটার প্রায়। ট্রানজিট ইলিভেটেড বাসা বা টিইবি নামক একটি নতুন প্রযুক্তির গাড়ি বানানোর কথা ভাবছে চিনের প্রযুক্তিবিদরা। এই বাসটির যাত্রীবাহী অংশটি রাস্তা থেতে বেশ উপরে থাকবে ফরে এর নিচ দিয়ে দুই মিটারের কম উচ্চতা বিশিষ্ট গাড়ি বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারবে। বাসটি চলাচলের জন্য রাস্তায় রেললাইনের মতো আলাদা লেন থাকতে হবে। এতে প্রায় ১২০০ যাত্রী চলাচল করতে পারবে। অন্য গাড়িগুলোকে লেন পরিবর্তনে সহায়তা করেও যানজট কমাতে গাড়িটি অবদান রাখবে বলে ধারণা প্রযুক্তিবিদদের। চীনের অন্যতম প্রধান শহর সাংহাইয়ে তৈরি করা হয়েছে দ্রুতগতির সাবওয়ে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। সাবওয়ে বা পাতাল ট্রেন মাটির প্রায় ৫০-৬০ফুট নিচ দিয়ে চলাচল করে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু সাবওয়ে স্টেশনে সকাল ৭টার আগের ট্রেন ধরতে পারলে টিকিটে তিরিশ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয় যাতে স্কুল-কলেজ বা অফিস শুরুর সময়ে ভিড় কম থাকে। এই পন্থা অবলম্বন করে সাংহাই শহরের যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। যেখানে সেখানে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি পার্কিং চীনের যানজট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। গত দশ বছরে চীনে মোটরগাড়ির সংখ্যা বেড়েছে বহুলাংশে।

কিন্তু সে তুলনায় বাড়েনি পার্কিংয়ের জায়গা। ফলে রাস্তায়, ফুটপাথে গাড়ি পার্ক করে রাখেন অনেকেই। সম্প্রতি চীনা সরকার এ ব্যাপারে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন আকারের গাড়ির জন্য আলাদা আলাদা পার্কিং মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাফিক আইন না মানলে ব্যাবস্থা করা হয়েছে জরিমানার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। মাটির নিচে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় উপায়ে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়াও যানজট নিরসন করতে চীনে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সড়ক, সেতু এবং রেলপথও। সম্প্রতি তৈরি করা হয়েছে উভয় স্থল এবং সমুদ্রপথে পৃথিবীর দীর্ঘতম সেতু। সেতুটি চীনের জনবহুল দু’টো শহর হংকং এবং ম্যাকাউয়ের মাঝের দূরত্ব কমিয়ে এনেছে আড়াই ঘন্টা।

তাছাড়া এই দু’টি শহরকে যুক্ত করেছে আরো এগারোটি শহরের সাথে। এভাবেই প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাকে একসাথে কাজে লাগিয়ে যানজট সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাচ্ছে চীন।

 

— আফসারা তাসনীম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares