ভুটানের ট্রান্সপোর্ট ও ট্রাফিক সিস্টেম I

Sharing is caring!

একসময় ছিল যখন ভুটানে মানুষ পায়ে হেটেঁ যাতায়াত করত।তবে বর্তমান এই আধুনিক যুগে ভুটানের ট্রাফিক সিস্টেম অত্যাধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভরযোগ্য।

ভুটানের রাস্তা প্রায় ৫ হাজার মাইল এবং ভুটানে ৪ টি বিমানবন্দর আছে।যার মধ্যে ৩ টি কার্যক্ষম এবং একটি আন্তঃসংযোগযুক্ত।ভুটানের ‘পারো’ হল সব বিমানবন্দরের মধ্যে একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।ভুটান নিজেদের ট্রান্সপোর্ট এবং ট্রাফিক আধুনিক করতে শুরু করে ১৯৬০ সাল থেকে,এবং তারা বর্তমানে ট্রান্সপোর্ট এবং ট্রাফিকে যথেষ্ঠ আধুনিক এবং উন্নত হয়েছে।ভুটানে কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই,তারা তাদের ট্রাফিক সিস্টেম উন্নত সব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করে। ভুটানের রাস্তা ১৯৬১ সালের আগে ভুটানে পায়ে হেটেঁ বা ঘোড়ার গাড়িতে করে যাতায়াত করত।২০০৩ সাল থেকে ভুটানের রাস্তা ৫ হাজার মাইল।ভুটানে ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সালে প্রথম রাস্তার কাজ শুরু হয়।

ভুটানের বর্তমান আধুনিক ব্যবস্থা এবং রাস্তার নিয়মিত পর্যবেক্ষন ব্যবস্থা আধুনিক করতে সাহায্য করেছে।ভুটানের আইন অনেক কঠোর হওয়ার ফলে কোন ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করতে পারে না। ভুটানের আইন পৃথিবীর মধ্যে ভুটান একমাত্র দেশ যেদেশে কোন ট্রাফিক সিগন্যাল নেই।ভুটানের রাস্তায় জেব্রা ক্রসিংয়ে কোন ব্যক্তি দাড়াঁনোর সাথে সাথে চলন্ত গাড়ি থেমে যায়,পথচারী যতক্ষন না পার হয় ততক্ষন পর্যন্ত গাড়ি চলবে না।এমনকি ভুটানে কোন ট্রাফিক পুলিশ নেই।ভুটান পরিবহন ব্যবস্থা বছরের পর বছর এভাবে চলছে এবং কোন প্রকার যানজট নেই।

তাছাড়া ভুটানে সড়ক দুর্ঘটনার হার খুব কম।প্রতিটা মানুষ আইন মেনে চলে।কিন্তু ভুটানের রাস্তা অনেক ঝুকিঁপূর্ণ।তবে এইসব ঝুকিঁপূর্ণ রাস্তায় ড্রাইভার নিখুঁত ভাবে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে যায়।ভুটানের মানুষ আইন শৃঙ্গলা মেনে চলে এবং তারা তাদের আইনের ব্যাপারে কঠোর এবং এশিয়ার যেকোন দেশের চেয়ে ভুটান ট্রাফিক সিস্টেমে এগিয়ে আছে।ভুটানে ধূমপান কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ এবং মদ্যপান করে গাড়ি চালানো নিষেধ। ড্রাইভিং লাইসেন্স সিস্টেম ভুটানে ইন্টারন্যাশনাল ড্রাইভিং লাইসেন্স পারমিট চলে না।যেকোন ইন্ডিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স ভুটানে ভ্যালিড এবং যেকোন ইন্ডিয়ান ভুটানে গাড়ি চালাতে পারবে।

ভুটানের রাজা রাস্তার সেফটি এবং ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম আধুনিক করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।তাছাড়া তাদের ঝুকিঁপূর্ণ রাস্তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস্তার সিস্টেম ভুটানের রাস্তায় সকল গাড়ি বামে চলে।ভুটানের শহর এবং গ্রামে গাড়ি ধীরে চালানোর বিষয়ে সবাই সজাগ থাকে।ভুটানে কোন ট্রাফিক পুলিশ না থাকার কারনে নিজেরাই আইন অনুযায়ী চলাফেরা করে ভুটানে।নিজেরা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান রাখে এবং সে অনুযায়ী চলে।

কারন ভুটানের আইন ব্যবস্থা খুব কঠোর এবং প্রতিটা ভুলের জন্য বা আইন ভঙ্গের জন্য রাজাকে কৈফত দিতে হয়।ফলে সকল জনগন আইন মানতে বাধ্য থাকে এবং মেনে চলে। সমস্যা ভুটানের গাড়ির সংখ্যা কম।ভুটানের গাড়ির জায়গা কম যা সাধারন মানুষ এবং পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করে।ভুটানের শুক্রবার এবং শনিবার বেশির ভাগ ড্রাইভার মস্যপান করে ফলে তারা গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।এর ফলে সাধারন মানুষ এতে বিপদের শিকার হয়।

ভুটানে অনেকক্ষেত্রে ড্রাইভাররা অতিরিক্ত উত্তেজনায় জোরে গাড়ি চালানো শুরু করে ফলে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে যদিও ভুটানের সড়ক দুর্ঘটনার হার কম। প্রতিকার কি ভুটানের আইন ব্যবস্থা অনেক কঠোর হওয়ার পরও বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

এর জন্য প্রয়োজন আরও সর্তকতা।ভুটানের গাড়ির পরিমান বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।কিছু কিছু জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা উচিত।এতে বিভিন্ন সমস্যায় সাহায্য হবে।গাড়ির জায়গা বৃদ্ধি করা উচিত।ড্রাইভাররা যাতে মদ্যপান করে গাড়ি না চালায় এবং জোরে না চালায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।এছাড়া ভুটানের সকল ট্রাফিক ব্যবস্থা এশিয়ার মধ্যে সেরা।

 

—  মুমতাহিনা প্রমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares