ভারতের ট্রাফিক ব্যবস্থার কতটা উন্নতি হয়েছে I

Sharing is caring!

ভারতকে পৃথিবীর দ্বিতীয় দেশ বলা হয় যা ট্রাফিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে উন্নতি করেছে।ভারত আমাদের পাশের দেশ এবং আমাদের বন্ধু।ভারতের ট্রাফিক ব্যবস্থা যথেষ্ট উন্নত হওয়া শর্তেও ভারতে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক বেশি।তবে ভারতের ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা অনেকটা উন্নত এবং ভারতের নাগরিকদের জন্য হাইওয়ে উন্নত করা হয়েছে।চলুন জেনে আসি ভারতের ট্রাফিক অবস্থা।

ভারতের হাইওয়ে ,

মহাসড়ক নির্মাণে গত কয়েক বছরে ভারত মনোযোগী এবং উন্নত হয়েছে। হাইওয়ের পাশাপাশি ভারত প্রায় ৩০টির মতো এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করেছে।যার সাথে ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে নির্মাণাধীন আছে আরও ৭ হাজার ৪০০ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে।ভারত ২০২২ সাল নাগাদ ১৮ হাজার কিলোমিটার হাইওয়ে তৈরি করার চেষ্টায় আছে।বর্তমানে ভারতে ছয় থেকে আট লেনের হাইওয়েগুলো ১ লাখ ৬৫ হাজার কিলোমিটার।যাত্রীর পাশাপাশি মালামাল পরিবহনে ভূমিকা রাখছে এই হাইওয়েগুলো।ভারতের হাইওয়ে অনেক উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর,নিরাপদ এবং যাত্রীবান্ধব।এই হাইওয়ে গুলো প্রতি ঘন্টায় ১০০ কি.মি চলতে পারে।ভারতের এই হাইওয়েতে এক মুহূর্তের জন্য এই গাড়িগুলো দাঁড়ায় না।

আইন ভারতে বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন অনেক কঠোর এবং প্রতিনিয়ত এই বিষয়ে কাজ চালাচ্ছে এবং মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পেট্রোলিং,চেকিং চলে যাতে মানুষ আইন মেনে চলে।

ভারতে ট্রাফিক ব্যবস্থা লেফট হ্যান্ড সিস্টেমে মানে যেকোন গাড়ি যেতে হলে বাম পাশের রাস্তা ব্যবহার করবে।ভারতে মদ্যপান করে গাড়ি চালালে এর জরিমানার সাথে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা আছে।প্রতি রাস্তায় যেহেতু চেকিং সিস্টেম আছে সেক্ষেত্রে আইন মেনে চলতে বাধ্য।মদ্যপান করে যদি কোন ব্যক্তি গাড়ি চালায় তাহলে ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয় এবং ৬ মাস কারাদন্ড ভোগ করতে হয়।এছাড়া গাড়িতে থাকার সময় সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক।এছাড়া ফিটনেস বিহীন গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো অপরাধ।সাধারন নাগরিকের রাস্তা পার হওয়ার জন্য জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।তাদের রাস্তায় ডিজিটাল সিগন্যাল লাইটের মাধ্যমে রাস্তা পার হওয়া যাবে।

ট্রাফিক দুর্নীতি,

আগেই বলা হয়েছে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নেটওয়ার্ক।ভারতের প্রধান মহাসড়ক কর্তৃপক্ষ(এনএএইচআই) সড়কের রক্ষণাবেক্ষন এবং সড়ক সম্প্রসারনের ক্ষেত্রে দায়ী থাকে।ভারতের এই সংস্থা স্বায়ত্তশাসিত।রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারতে অভিযোগ আছে এই সংস্থা দুর্নীতি এবং দুর্ব্যবহারের জন্য সবার কাছে পরিচিত।

এছাড়াও প্রতারনামূলক চুক্তি এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের ফলে খারাপ সব উপাদান এবং পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণ করেছে।যার ফলে খুব দ্রুত রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়া থেকে শুরু করে আরও বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হল,যাতে সাধারন নাগরিক দুর্ভোগে পড়েছে।

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মাধ্যম “সড়ক”

ভারতের স্বাধীনতার ৭০ বছর পর প্রায় ৯০% যাত্রী এবং শিল্প পরিবহন সড়কের মাধ্যমে যাতাযাত করে।ভারতের রেলওয়ে এবং বিমান পরিবহন এখনও তাদের মতে অতটা উন্নত না বা প্রযুক্তি নির্ভরে সক্ষম হয় নি যার কারনে বিশাল চাপ পড়ে ভারতের রাস্তাগুলোতে।

এই ধরনের পরিস্থিতে রাস্তার গুনগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়।কারন সব সময় রাস্তা গুলো ব্যস্ত থাকে এবং সারা বছর একই অবস্থা থাকে।তাছাড়া ভারতের বিভিন্ন সময়ের আবহাওয়া,জলবায়ু রাস্তার গুনগত মান নিয়ন্ত্রন করা কঠিন করে তোলে।

দুর্বল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম,

ভারতের কিছু এলাকায় বা শহরে এখনও দুর্বল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম আছে।মুম্বাই এবং দিল্লি বাদে ভারতের বাকি শহর গুলোতে ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ভালো।কিন্তু মুম্বাই এবং দিল্লিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে রাস্তার গুনগত মান ঠিক রাখা অনেকটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।মুম্বাই এবং দিল্লিতে জনগণ নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করে দুর্বল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের কারনে।

সমাধান:

ভারতে তাদের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের সমস্যার কারনে বিভিন্ন ধরনের সমাধান তারা বের করেছে এবং তার প্রয়োগের ব্যবস্থা চলছে।

ভারতের পরিবেশবাদী এবং বিশেষজ্ঞরা মিলে বিভিন্ন সমাধান বের করেছে।তারা বলেছেন,সর্বোপ্রথম দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে এবং রাস্তার কাঁচামাল সর্বোচ্চ গুনমানের দিয়ে রাস্তা তৈরি করতে হবে।যাতে তা দীর্ঘায়ু হয় এবং শক্তিশালী হয়।

সড়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাস্তার দৈর্ঘ্য বাড়ানো এবং রাস্তা ব্যবহার স্টহিক ভাবে না করা হলে চার্জ করা হবে এই আইন করা।রাস্তার গুনগত মানের জন্য বিশাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা।

কিছু ক্ষেত্রে বা কম দূরত্বের জন্য সাইকেল পুলিং সিস্টেম করা উচিত এতে বায়ু দূষণ কমবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস পাবে।

ট্রাফিক আইন আরও উন্নত এবং কঠোর করতে হবে।

— মুমতাহিনা প্রমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares