ভারতের ট্রাফিক জ্যাম কমাতে রয়েছে কঠোর পার্কিং নিয়মনীতি !!!

Sharing is caring!

ভারতের বিভিন্ন শহরে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর অপরিহার্য উপাদানগুলির একটি হল পার্কিং ব্যবস্থা ।২০১০ সালে ভারতে উৎপাদিত মোট গাড়ির সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন স্পর্শ করেছিল এবং ২০৩০ সালে সড়ক ভিত্তিক ট্র্যাফিক সমস্যা এবং যাত্রী বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করা হয়।তবে অটোমোবাইলগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা সড়ক অবকাঠামো বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কযুক্ত করতে সাহায্য করে না।

তাই ট্রাফিক জ্যাম এবং দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। ভারতীয় রাস্তাগুলোতে একটি ট্রাকের গড় গতি ঘন্টায় প্রায় ২৫ কিমি এবং আইআইএম কলকাতা স্টাডি অনুসারে পশ্চিমা দেশগুলোতে ৬০০-৭০০ কিমি ভ্রমণের তুলনায় এটি প্রতি দিন ২৫০-৩০০ কিলোমিটার দূরে ভ্রমণ করতে সক্ষম।ভারতের উৎপাদিত সমস্ত যানবাহন কোথাও পার্ক করার জন্য বিশাল স্থান প্রয়োজন।ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের (আইআরসি) অনুযায়ী, একটি গাড়ি কোন স্থানে রাখতে গড়ে ২৫ বর্গমিটার জায়গা লাগে।

একটি গাড়ীর মালিক তার বাসস্থান এবং তার অফিসে অথবা কেনাকাটা করতে এবং অন্যান্য উদ্দেশ্যে বাইরে গেলে অবশ্যই গাড়ী পার্ক করবে। এর অর্থ হ’ল তারা বিশাল পরিমাণ গাড়ির জন্য জায়গা ব্যবহার করবে।এই ল্যান্ড স্পেস সাধারণত যে স্থানে থাকে তার বাজার মূল্য বিশাল হয়।পার্কিং স্পেস সাধারনত একটি পাবলিক স্পেসকে ব্যবহার করা হয় এবং দিন দিন ক্রমবর্ধমান ট্রাফিক সমস্যার জন্য পার্কিং একটি প্রধান উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাষ্ট্রে পাবলিক স্পেসগুলোর তত্ত্বাবধায়ন হচ্ছে জনগণকে সুবিধাদি প্রদানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা, যখন নিশ্চিত করা হয় যে এটির সুবিধা সবাই পাচ্ছে বা অপব্যবহার করা হচ্ছে না তখন রাষ্ট্র আরও উন্নত করার জন্য নতুন কার্যক্রম হাতে নেন। এই মুহুর্তে ভারত অটোমোবাইল জনসংখ্যার স্বার্থে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং জনসাধারণের জন্য যথাযথ স্থান ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কি কি রুলস চালু করা উচিত তা নিয়ে পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন।

বর্তমান ভারতের নীতি-

সাধারণ নিয়মের তুলনায় পার্কিংয়ের জন্য ভারতের কোন নিজস্ব আইন নেই। সাধারণত,পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োগকারী সংক্রান্ত আইন আছে। ২০০৬ সালে নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয় দ্বারা নির্মিত ভারতের জাতীয় নগর পরিবহন নীতি (এনইটিপিপি) ভারতে পার্কিংয়ের জন্য নিয়ম তৈরি করে।এটি উল্লেখ করে যে,“জমি একটি মূল্যবান পণ্য এবং পার্কিং ফি পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহৃত স্থানের বাজার মূল্য বৃদ্ধি করবে।” পাশাপাশি পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস প্রদানের জন্য আইন প্রণয়নের জন্য যথাযথ সংশোধন করতে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়।পার্কিং স্থান নির্ধারণ একটি রাষ্ট্রীয় বিষয়।

বেসিক পার্কিং নিয়ম,

ট্রাফিক জ্যাম কমাতে এবং পার্কিং সমস্যা দূর করতে কিছু রুলস করা হয়েছে ভারতে।সেগুলো হল-

এমন কোন স্থানে গাড়ি পার্ক করবেন না যেখানে উভয় দিকে অন্তত ৫০ মিটারের মত জায়গা নেই।

এমন কোন জায়গায় গাড়ি পার্ক করবেন না যেখানে ইতিমধ্যে গাড়ি পার্ক করা এবং কোন পথচারী বা কোন রাস্তার প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়।

যখন হোটেল, থিয়েটার বা হল জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে তখন পাবলিক হলের প্রবেশের কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করবেন না।

কোন ইন্টারসেকশন এর কাছাকাছি গাড়ি পার্ক করবেন না।

গাড়ি পার্কের দরজা খুলে দেওয়ার আগে চারদিকে তাকান।এক মুহূর্ত ভালো করে দেখে এরপর গাড়ি পার্ক করুন।

গাড়ি রাস্তার বাম পাশে পার্ক করুন।

পার্কিংয়ের পরে, ইগনিশন এবং লাইট বন্ধ করুন।

 

—- মুমতাহিনা প্রমি,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares