বিশ্বের উন্নত শহরগুলো যানজট মোকাবেলা করছে যেভাবে I

Sharing is caring!

যানজট সমস্যা এখন পুরো বিশ্বেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কাজপ্রিয় মানুষদের জন্য এ যেন এক দুঃস্বপ্ন! প্রতিদিন যানজটের কারণে নষ্ট হয় অসংখ্য কর্মঘন্টা।

ফলে দেশকে অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। অনেকের মনে হতে পারে যানজট সমস্যা মনে হয় শুধু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই আছে। কিন্তু তা নয়, পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশের বিভিন্ন শহরে এই সমস্যা রয়েছে এবং কঠিনভাবেই রয়েছে। কিন্তু যানজট সমস্যা মোকাবেলা না করে তারা বসে নেই। প্রতিনিয়তই চেষ্টা চালাচ্ছে যানজট কমিয়ে আনতে।

এই সমস্যার হার একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার উপায় হয়তো নেই। তবে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আজ জানবো এমনই কিছু শহরের এমনই কিছু পন্থা অবলম্বনের কথা যা যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লন্ডন (যুক্তরাজ্য) ।

লন্ডনে এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু আছে যাতে ঘরে বসেই পুরো শহরের সব রাস্তার খবর এবং ঐ সময়ে কোন কোন রাস্তায় যানজট লেগে আছে তা জানা যায়। এমনকি এই অনলাইন সেবা আপনাকে বাস, টিউব ট্রেন, ট্যাক্সি, সাবওয়ে কোন পরিবহণ সেবা গ্রহণ করলে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে পারবেন তাও বাতলে দেবে। এই অনলাইন ব্যবস্থাটি পুরোপুরি ব্যবহারকারীর তথ্য আদান-প্রদানের উপর নির্ভর করে। মোবাইল এ্যাপস ডেভলপাররা বর্তমানে এই অনলাইন সেবার একটি মোবাইল এ্যাপ সংস্করণও বের করেছে। মোবাইল এ্যাপটিতে আরো কিছু সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করা তাই এখন আরো সহজ হয়ে গিয়েছে। সিঙ্গাপুর সিটি (সিঙ্গাপুর) ।

সিঙ্গাপুরে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনতে গেলে গাড়ির নিবন্ধন পত্র পেতে রীতিমতো নিলামে অংশ নিতে হয়। একটি নিবন্ধন পত্র সর্বনিম্ন ৪৮হাজার সিঙ্গাপুরি ডলারে বিক্রি হয়। শুধু তাই নয়, এই নিবন্ধন পত্রগুলি প্রতি মাসে শুধু কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যায়েই তৈরি হয় তাই এগুলো বিক্রিও হয় চড়া দামে। এর মেয়াদ থাকে মাত্র দশ বছর পর্যন্ত। এই খরুচে পদ্ধতি এড়াতে সিঙ্গাপুরের জনগণের তাই ট্রেন যাতায়াতই ভরসা। আর একারণেই সিঙ্গাপুরে মোটরগাড়ির সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা গেছে।

মিলান (ইতালি) ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে মিলানে ব্যস্ত সড়কগুলোতে প্রবেশ করতে নির্দিষ্ট কর প্রদানের নিয়ম করা হয়েছে। মিলানের সেসব রাস্তায় সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক থাকে সেসব রাস্তায় গাড়ি চালাতে গেলেই করতে গেলেই জরিমানা দিতে হবে পাঁচ ইউরো। এই জরিমানা এড়াতেই ওসব রাস্তায় গাড়ি চলাচল কমে গেছে অন্তত ১৯ শতাংশ। ফলে মিলানের প্রধান রাস্তাগুলোতে এখন সহজেই যানজট এড়ানো সম্ভব হচ্ছে।

কোপেনহেগেন (ডেনমার্ক) কোপেনহেগেনে যানজট নিরসনে নেয়া হয়েছে এক অভিনব পন্থা। বর্তমান বিশ্বে গাড়ি পার্কিং সমস্যা প্রকট। অনেকদেশেই গাড়ি পার্কিং সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। অথচ কোপেনহেগেন শহরে প্রতি বছরেই গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এতে করে গাড়ির মালিকদের গাড়ি পার্কিং করতে অসুবিধায় পড়তে হয়। ফলে তারা গণ পরিবহণ বা বাইসাইকেলে চলাচলে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।

ইউরোপের আরো অনেক শহরেই এই ব্যবস্থা চালু রয়েছে। টোকিও (জাপান) বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল জাপানের রাজধানী টোকিও। এখানে বাস করে চার থেকে পাঁচ কোটি মানুষ এবং তার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় দু’কোটি মানুষ কাজে যায়। এত জনবহুল হওয়া সত্ত্বেও টোকিওতে যানজট সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে আর এর কারণ হচ্ছে সাবওয়ে বা পাতাল ট্রেন। প্রতিদিন অন্তত আশি লাখ মানুষ টোকিওর এই পাতাল ট্রেন ব্যবহার করে নিজনিজ গন্তব্যস্থলে যেতে। এই সাবওয়ে ব্যবস্থা এতটাই সহজলভ্য এবং সুবিধাজনক যে টোকিওর অধিবাসীরা নিজের গাড়ির থেতে এতে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ফলে টোকিওর প্রধান রাস্তাগুলোতে গাড়ির ভিড় দেখা যায়না বললেই চলে। সাও পাউলো (ব্রাজিল) পৃথিবীর তীব্র যানজটময় শহরগুলোর মধ্যে সাও পাওলো একটি। এখানের রাস্তাগুলোয় যানজট লেগেই থাকে, কখনো কখনো তা হয় খুব দীর্ঘ। এই সমস্যা দূর করতে সাও পাউলোতে তৈরি করা হচ্ছে নতুন নতুন মহাসড়ক। মেট্রো লাইন তৈরি করতে বরাদ্দ করা হয়েছে একশ কোটি টাকা। এছাড়াও এর প্রধান প্রধান সড়ক এবং সেতুগুলো প্রশস্তকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবেই অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সাও পাউলোর যানজট সমস্যা কমিয়ে আনা হচ্ছে।

 

—-  আফসারা তাসনীম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares