নেপালের ট্রাফিক সমস্যা ও তা সমাধানের প্রক্রিয়া I

Sharing is caring!

নেপালের বাস লাইন সবচেয়ে বড় এবং নেপালের ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম প্রথম ১৯৫৯ সালে নির্মান করা হয়।নেপালের পরিবহন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র সড়ক পরিবহন এবং বিমান পরিবহন ব্যবস্থা আছে।যার মাধ্যমে মানুষ যাতায়াত করে।এছাড়া তাদের একটি মাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে।বিভিন্ন দেশের মানুষ নেপালে ঘুরতে এলে এই সমস্যা গুলোতে পড়ে থাকে যা যেকোন মানুষকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মোটর গাড়ি,ছোট গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

অন্য সকল দেশের মত নেপালের কাঠমন্ডুতে প্রচুর ট্রাফিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সাধারন মানুষদের।বর্তমানে নেপালের সরকার উন্নত প্রযুক্তির ট্রাফিক ব্যবস্থা স্থাপন করার পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে।ফলে ২ বছরের মধ্যে ৩৫ ট্রাফিক পয়েন্টে রিয়েল টাইম ও সিসিটিভি লাইভ ভিডিও এর মাধ্যমে ট্রাফিক জ্যাম প্রতিরোধ করা যাবে।

আগের অবস্থা –

নেপালের পাহাড়ি এলাকায় আগের অবস্থা খুব বেশি ভালো ছিল না।তাদের বেশির ভাগ জায়গায় পায়ে হেটেঁ পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যেতে হত।উন্নত কোন ব্যবস্থা ছিল না।সব এলাকায় ভালো রাস্তা ছিল না।উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর রাস্তা বা যানবাহন ছিল না।

তবে বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর রাস্তা এবং যানবাহন আছে।যানবাহনের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে যাতে সাধারন মানুষ তাদের গন্ত্যব্যে সহজ ভাবে যেতে পারে।বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।যাতে ট্রাফিক জ্যাম না বাড়ে।কারন নেপালে প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সম্মুখীন হতে হয়।ফলে প্রতিদিন মানুষের অনেক সময় যেমন নষ্ট হয় তেমনি কাজের মানসিকতা নষ্ট হয়।নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার হারও অনেক বেশি অন্য দেশ থেকে।কারন প্রচুর যানবাহনের কারনে এবং মানুষ আইন না মানার কারনে।নেপালের আইন অনেকটা দুর্বল।এসকল কারনে নেপালে দিন দিন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে।

নেপালের ট্রাফিক আইন-

নেপালে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হলে,মোটর যানের ক্ষেত্রে যদি হেলমেট ব্যবহার করা না হয়।অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয় তাহলে জরিমানা হয়।তবে তা কঠোর ভাবে পালন করা হয় না।যার কারনে এস্কল কাজ প্রতিনিয়ত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ।রুট পারমিট না থাকলে কোন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে পারবেন না এবং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।কিন্তু নেপালে এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা না করার কারনে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।

নেপালের সকল যানবাহন বাম পাশে চলে রাস্তার।ড্রাইভিং করতে করতে খাওয়া বা ধুমপান বা মদ্যপান করা স্বাভাবিক।রাস্তার পাশের সাইন বা নির্দেশগুলো খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না।এসকল কারনে নেপালে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে।নেপালের আইন কঠোর না হওয়ার ফলে এই সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত সংবাদ মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

সমস্যার সমাধান কি ?

মস্যা হলে তার সমাধানও আছে।নেপালের আইন সবার আগে কঠোর করতে হবে।ড্রাইভিং করার সময় মদ্যপান করা,ধুমপান করা নিষিদ্ধ করতে হবে।জরিমানা এবং কারাদন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।

মাঝারি ও ছোট শহরগুলিতে বা বড় কেন্দ্রে সড়ক দুর্ঘটনাকে সংহত করার সবচেয়ে সাধারণ পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে ট্রাফিকের মধ্য দিয়ে বাইপাস নির্মাণ করা। এই সিস্টেমটি সারা বিশ্ব জুড়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অনুসরণ করা হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পরিকল্পনাকারীরা নতুন বা উন্নত মহাসড়কের জন্য অতিরিক্ত সড়ক ক্ষমতা নির্মাণের বিষয়টি দেখেছিলেন, যা প্রধান শহর ও শহরগুলির মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করার প্রধান সমাধান হিসেবে কাজ করেছে I

এছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সূচনা থেকে বর্তমান রাস্তার প্যাটার্নে বিভিন্ন বিধি নিষেধ ব্যবস্থা করা যায়।সর্বাধিক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলির মধ্যে ট্রাফিক এক্সটেনশান, ট্র্যাফিক-লাইটের পরিবর্তন, প্রধান সড়কগুলিতে পার্কিং এবং যানবাহন লোডিংয়ের বিধিনিষেধ করা যেতে পারে।

মাল্টি-লেন মহাসড়কগুলি সকালের দিকে এবং বিকেলে ট্র্যাফিকের জন্য কয়েকটি লেনকে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যার ফলে ট্রাফিক জ্যাম কম হবে।তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক যানবাহন হাইওয়ে সিস্টেম (আইভিএইচএস) উপর ভিত্তি করে, ট্রাফিক লাইটের কম্পিউটারাইজড কন্ট্রোল ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আইভিএইচএসকে উন্নত গাড়ির কন্ট্রোল সিস্টেমের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে, ড্রাইভারের ত্রুটি দূর করতে এবং স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং এবং স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণে দুর্ঘটনাগুলি হ্রাস করার সময় ইন-কার কম্পিউটার ব্যবহার করা যেতে পারে।

— মুমতাহিনা প্রমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares