তেল থেকে সিএনজি ব্যবহারে আমরা কিভাবে উপকৃত হবো I

Sharing is caring!

এক সময় বাংলাদেশে বেশির ভাগ যানবাহন তেল দ্বারা চালিত ছিল।তেলের খরচ ছিলো প্রচুর যা সাধারন জনগনের বহন করতে হতো।তবে বর্তমানে তেল দ্বারা খুব কম যানবাহন চলে,বলা চলে তেমন নেই।কারন বাংলাদেশে এখন অধিকাংশ যানবাহন চলে সিএনজি দ্বারা।বাংলাদেশের পথে পথে এখন সিএনজি স্টেশন তৈরি হয়েছে।কিন্তু এর কারন কি?কেন তেল থেকে সিএনজিতে চালিত হচ্ছে সকল যানবাহন এধরনের প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে।তাহলে চলুন জেনে নেই তেল থেকে সিএনজি কেন উপকৃত এবং আসলে সিএনজি বিষয়টা কি তাও আমরা জেনে নিবো।চলুন তাহলে-

সিএনজি কি  ?

কম্বপ্রেসেড ন্যাচারাল গ্যাস যার থেকে সংক্ষেপে হয়েছে সিএনজি।প্রাকৃতিক গ্যাসকে উচ্চ চাপে সংরক্ষন করার কাজ হল সিএনজি।যেমন ডিজেল,পেট্রল,প্রোপেন এধরনের সকল জ্বালানীকে ব্যবহার করা যায়।কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বালানীর তুলনায় অনেক কম অবাঞ্জিত গ্যাস উৎপাদন করে।প্রাকৃতিক গ্যাস বাতাসের থেকে হালকা হয় এবং ছেড়ে দেওয়ার পড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

আমরা সিএনজি কি এবং এর কাজ বা বিষয়টি কি তা অল্প হলেও জেনে নিলাম।এখন আসুন জেনে নেই সিএনজি কেন ব্যবহার করা উচিত!

সিএনজি কেন ব্যবহার করবেন I

প্রথমেই যদি বলি তাহলে বলতে হবে সিএনজি এর খরচ কম এক কথায় সস্তা।তাই আপনি ব্যবহার করতে পারেন।কিন্তু মনে আপনার প্রশ্ন জাগবে শুধু সস্তা বলেই কি ব্যবহার করবো?আর কোনো সুবিধা কি নেই এর!তাহলে বলে রাখি প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রচুর সুবিধা যা আপনাকে উৎসাহিত করবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে।প্রাকৃতিক গ্যাস পরিষ্কার এবং গন্ধহীন হয়।আর বাতাসের তুলনায় হালকা হয় যা উপরেই বলা হয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের সুবিধাগুলো-

অন্যান্য গাড়ির হাইড্রোকার্বন জ্বালানী চালিত যানবাহনগুলোর চেয়ে প্রাকৃতিক গ্যাস খরচ কমায়।

সিএনজি জ্বালানি সিস্টেমগুলো সিল হয়ে গেছে, যার জন্য বাষ্পীভবন থেকে জ্বালানি ক্ষতির প্রতিরোধ করে।

সিএনজি বাতাসে সহজ ভাবে মিশে যায়।

সিএনজি চালিত যানবাহন পেট্রল চালিত যানবাহনের চেয়ে নিরাপদ বলে মনে করা হয়।

সিএনজির কারনে পরিবেশ কম দূষণ হয়।

পরিবেশগত উপকারিতা প্রচলিত পেট্রোল ও ডিজেলের তুলনায় সিএনজি পরিবেশগত।কার্বন মনোক্সাইড নির্গমন প্রায় ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ৪৪% হাইড্রোকার্বন পেট্রল চালিত যানবাহনগুলোর তুলনায় কম উৎপাদিত হয়।প্রাকৃতিক গ্যাস এখনও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করার জন্য অবদান রাখে।

আরেকটি সুবিধা হল যে গ্যাস লিকের ক্ষেত্রে, জ্বালানীটি কোন বিপদ সৃষ্টি করে না কারণ জ্বালানীটি অ-বিষাক্ত।যার কারনে এধরনের দুর্ঘটনা কম ঘটে থাকে।সিএনজি গাড়ি গ্যাসোলিন এবং ডিজেল গাড়িগুলোর চেয়ে কম শব্দ দূষণ হয়।

সিএনজি নিরাপত্তা –

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় সিএনজি এর জ্বলনযোগ্যতা রেটিং প্রায় ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, যা অন্য জ্বালানীগুলোর চেয়ে কম জ্বলন্ত এবং নিরাপদ করে তোলে। এছাড়াও, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনায়, গাড়ির আকার, কাঠামো এবং গাড়ির মধ্যে অবস্থানের কারণে সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসোলিন এবং ডিজেল ট্যাংকগুলোর চেয়ে কম বিপজ্জনক।এই সিলিন্ডারগুলোতে নিরাপত্তা ডিভাইসগুলো রয়েছে যা স্বাভাবিক চাপ বা তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হলে গ্যাসটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে।

জ্বালানী-

সিএনজি এর মধ্যে সালফার, কণাযুক্ত বস্তু, ভারী ধাতুর লক্ষণ বা এতে বিষাক্ত কোন কিছু নেই,যা আপনার মোটর তেল দূষিত করতে পারে।আবার অনেকে ভাবে সিএনজির জন্যই হয়ত তার গাড়ির কোন পার্ট নষ্ট হয়েছে।কিন্তু ধারনাটি একদম ভুল।সিএনজিতে কোন ধরনের বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার করা হয় না।

আপনার গাড়ীর কম ক্ষতি-

প্রথাগত পেট্রল এবং ডিজেলের তুলনায় সিএনজি জ্বলন্ত কোন অবশিষ্টাংশ অবশিষ্ট রাখে না।এর মানে গাড়ির ইঞ্জিনে পাইপ এবং টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।যার ফলে আপনার গাড়ির ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম।

ভালো কর্মক্ষমতা –

প্রাকৃতিক গ্যাস ইঞ্জিনগুলো পেট্রল ইঞ্জিনের কার্যকারিতা থেকে যথেষ্ট ভালো।কারণ প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ১৩০ অক্টেন রেটিং রয়েছে।সিএনজির কর্মক্ষমতা ভালো এবং দ্রুত চলতে সাহায্য করে।আর সাশ্রয়ী একটি মাধ্যম বলা চলে।তাছাড়া ভবিষৎ প্রজন্ম তাদের সময় এই মাধ্যমকে আরও উন্নত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।ভবিষ্যতে, ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে যে আরো অনেক নাগরিক সিএনজিতে রূপান্তরিত করতে বা সিএনজি যানবাহনগুলো ক্রয় করতে আগ্রহী হবে।

তাছাড়া সিএনজির এত এত ভালো সুবিধার কারনে দিন দিন সিএনজি চালিত যানবাহন বাড়ছে।সাধারন মানুষ সিএনজিকে নিরাপদ মনে করছে যার কারনে তেল থেকে সরাসরি সিএনজিতে ব্যবহারে উৎসাহি হচ্ছে।আগামীতে ধরে নেওয়া যায় সিএনজি আরও উন্নত হবে।

— মেকানিক মামা

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares