গাড়ি পার্কিং সমস্যা সমাধানের কিছু তত্ত্ব ……

Sharing is caring!

ঢাকা সহ দেশের প্রধান শহরগুলি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে ক্রমাগত। অথচ এটি দেখার বা বোঝার কেউ নেই এখানে। একটি কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক আইন দেশে থাকা অত্যাবশ্যক। যদি একটি প্রফেশনাল বডি দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যেত, তবে সবচেয়ে ভাল ফল লাভ সম্ভব হতো।

দেশের সব যানবাহনের একটি কম্পিউটার ডাটাবেস তৈরী করতে হবে। দশ লাখ গাড়ি ও চালকের লাইসেন্সের ডাটাবেস তৈরী মোটেই কঠিন কাজ নয়। আমরা কয়েক কোটি মানুষের ডাটাবেস আমরা তৈরী করতে পেরেছি খুব কম সময়ে। এটা কোন কাজে আসবে কিনা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। তবে যানবাহন ও চালকের ডাটাবেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য ভান্ডার। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এটা অত্যন্ত ভাল ফল বয়ে আনবে। ল্যাপটপ কম্পিউটারে আঙুলের হালকা স্পর্শেই নির্দিষ্ট চালক ও গাড়ির যাবতীয় তথ্য সহজে পাওয়া যেতে পারে এবং সহজে ট্রাফিক অপরাধগুলো রেকর্ডভূক্ত করতে পারা যাবে।

২ : গাড়ির ইঞ্জিনের ক্যাপাসিটি/আকার অনুযায়ী এই জরিমানার পরিমানে তারতম্য হবে।

কোন এক মাসে চালকের অর্জিত মোট পয়েন্ট বেশী হলে, ঐ সময় থেকে পরবর্তী মাস সেই চালক গাড়ি চালানোর জন্য নিষিদ্ধ করা যেতে পারে ।

তৃতীয় মাসে আবার গাড়ি চালানোর জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। দ্বিতীয় মাসে গাড়ি চালানোর যোগ্যতা অর্জন করতে হলে পূর্ববর্তী মাসের মোট জরিমানার দ্বিগুন অর্থ জরিমানা দিতে হবে। দুই ধরনের শাস্তি প্রযোজ্য।

১ : গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নাম্বারের উপর শাস্তি।

২ : চালকের লাইসেন্সের উপর শাস্তি।

কোন কোন ক্ষেত্রে উভয় প্রকার শাস্তিও প্রযোজ্য হতে পারে। চালকের দোষে বা ট্রাফিক আইন অমান্য জাতীয় যেসকল অপরাধ হয়ে থাকে সেগুলো সাধারণত ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ধার্য করা হবে।

সরকার বিভিন্ন শ্রেণীর ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অপরাধের জরিমানা বিভিন্ন সময়ে পুননির্ধারণ করবে।ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির আইন ভংগের ঘটনাগুলো রেকর্ড করে রাখা যায়। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৫/৬টি ক্যামেরা সক্রিয় থাকলেই যথেষ্ট। ১৫ সেকেন্ডের একটি ‘ভিডিও শট’ই একটি গাড়ির আইন ভংগের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পারে। একটি ভিডিও ক্যামেরার ডিভিডি’তে অন্তত ৩০টি অপরাধের সচিত্র ক্লিপ তুলে রাখা যায় ও সে অনুযায়ী গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের বিরুদ্ধে জরিমানা করা যায়। ভিডিও ক্লিপে তারিখ ও সময় সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ রাখা যাবে। এতে গাড়িতে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় কোন চালক গাড়িতে ছিলেন তা গাড়ির মালিক সহজের অনুধাবন করতে পারবেন।

ব্যস্ততম সড়কের যত্রতত্র অবাধে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে গোটা ঢাকা যানজটের নগরীতে পরিণত হলেও এ সংকট সমাধানে দীঘির্দনেও তৈরি হয়নি কোনো পূণার্ঙ্গ নীতিমালা। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, পাকির্ং নীতিমালা ছাড়া কোনোভাবেই নগরীর ব্যস্ততম এলাকার যানজট পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে না।গাড়ি পার্কিংয়ের সুনিদির্ষ্ট স্থান নিধার্রণ না করে গাড়ির মালিক-চালকদের ঘাড়ে আইনি খড়গ তুলে দিলে এ সমস্যা আরও প্রকট হবে বলে মনে করেন পরিকল্পনাবিদরা। এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করে পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলেন, গাড়ির মালিক-চালকদের অনেকেই খুব সহজে আইন ভাঙতে চান না।

বিশেষ করে গাড়ি পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যানবাহনের মালিক-চালকরা যথেষ্ট সচেতন। অথচ এ ব্যাপারে সুনিদির্ষ্ট কোনো দিকনিদের্শনা না থাকায় তারা অনেক সময় কোথায় গাড়ি পাকিং করতে হবে কিংবা কোথায় তা পার্কিং করা যাবে না তা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে প্রায়ই তাদের আইনি ফাঁদে পড়ে মোটা অংকের অর্থদন্ড দিতে হয়। যা তাদের ক্রমেই আইনের প্রতি আস্থাহীন করে তোলে। প্রতিটি দোকানের সামনে একাধিক গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হলে এসব যানবাহনের মালিক-চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে ।

পার্কিং নীতিমালা-২০১৮-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, পদ্ধতির আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগীকরণ, সমন্বিত বাস্তবায়ন ও পার্কিং চার্জের মাধ্যমে সরকারের নন-ট্যাক্স রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই তা মতামত গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে পাঠানো হবে। নীতিমালায় ১৪টি বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আসুন আমরা সবাই ট্রাফিক আইন মেনে চলি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখি।
মোঃ মিথুন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares