উন্নত দেশ সিঙ্গাপুরে বেড়ে চলেছে পার্কিং সমস্যা !

Sharing is caring!

সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং দ্বীপ দেশ হিসেবে পরিচিত।সিঙ্গাপুরে, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ইতিহাসের কারণে বিভিন্ন নিয়ম তখনকার সময়ের মানা হয় এবং রাস্তার বাম পাশে গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চলে।সিঙ্গাপুরের রাস্তায় বাম পাশে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যেমন, বাম হ্যান্ড ড্রাইভ কনফিগারেশনের সাথে যানবাহনগুলিকে “LEFT-HAND-DRIVE” নির্দেশ করে এমন একটি চিহ্ন ব্যবহার করে চলা হয়।সিঙ্গাপুরে গাড়ির পার্কিং নিয়ে খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় না।কারন আত্যাধুনিক প্রযুক্তি তারা ব্যবহার করছে।যার মাধ্যমে গাড়ি পার্কিং নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন কম হতে হচ্ছে।

তবে সিঙ্গাপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া খুব কষ্টের বিষয়।যার কারনে সাধারন মানুষ সতর্ক থাকে এবং খুব কম মানুষ নিজের গাড়ি রাখে।সিঙ্গাপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ১৮ বছর বয়স হতে হয়।পরীক্ষার মাধ্যমে পাস করতে হয় এবং লাইসেন্সটি দেওয়া হয় যার মেয়াদ ৬ মাসের থাকে এবং পরবর্তী সময়ে আবার একটি পরীক্ষা দিয়ে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হয় যার মেয়াদ থাকে ২ বছরের।

এবার আসা যাক পার্কিং নিয়ে,আগেও বলেছি সিঙ্গাপুরের পার্কিং খুব উন্নত।সিঙ্গাপুরে একটি গাড়ি পার্কিং করতে হলে তার জন্য খরচ দিতে হয়।আবার যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করা যাবে না।যদি গাড়ি পার্কিং করতে হয় তবে অবশ্যই নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি পার্কিং করতে হবে।যা অটোমেটিক সিস্টেমের,গাড়ি পার্ক সেন্স আছে।আপনি যখন গাড়ি নিয়ে যাবেন সাথে সাথে অটোমেটিক গেট খুলে যাবে এবং আপনাকে একটি টোকেন নিতে হবে টাকার মাধ্যমে।আবার যখন গাড়ি নিয়ে বের হবেন তখন সেই টোকেন দেখিয়ে বের হতে হবে।

তবে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে পার্কিং নিয়ে কিছু সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।বিভিন্ন শপিংমল,মন্দিরে পার্কিং নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সিঙ্গাপুরবাসিদের।তাই সিঙ্গাপুরে নতুন নীতি তৈরি করার কথা চিন্তা ভাবনা করছে।

কিছু বছর ধরে, সিঙ্গাপুরের গাড়ির সংখ্যা বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু কারপার্ক স্পেস গাড়ির সাইজ এবং সংখ্যা অনুযায়ী অনেক কম।ফলে কর্তৃপক্ষ কিছু নিয়ম মেনে চলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

একটি রিপোর্ট অনুসারে, বৃহত্তর সিঙ্গাপুরে গাড়ির প্রায় ২৫ শতাংশ ড্রাইভার শপিংমলে গাড়ি পার্ক করার স্পেস পায় না।এমনকি নেভিগেট করতে অসুবিধায় পড়তে হয়।সিঙ্গাপুরের ল্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি নির্দেশ দিয়েছে যে কারপার্ক স্পেস কমপক্ষে ৪.৮ মি. দীর্ঘ এবং ২.৪ মিটার প্রশস্ত হতে হবে।

সিঙ্গাপুর ভেহিকল ট্রেডার অ্যাসোসিয়েশনের মারফত জানা যায়, কিছু প্রয়োজনীয় শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি।সিঙ্গাপুরের গাড়িগুলো ১৯৯০ এর দশকের পর থেকেই আকারে বেড়েছে।উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, হন্ডা অ্যাকর্ডের প্রস্থ ১৯৯০ থেকে ১.৮৫ মিটার পর্যন্ত ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, সিঙ্গাপুরে আরও বড় ধরনের গাড়ি যেমন স্পোর্টস ইউটিলিটি যানবাহন এবং মাল্টিকার গুলোর জন্য পার্কিং স্পেস বেশি লাগে।গত তিন বছরে হাট লি লি ব্যাটারি এবং মোটর সার্ভিসের নিগেল চ্যানের গাড়ি মেরামত কর্মশালায় আনুমানিক ২৫ শতাংশ গাড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে। জনসংখ্যা হিসাবে, অনেকেই বড় গাড়িগুলি বেছে নিচ্ছে যার জন্য কার পার্কিং নিয়ে সিঙ্গাপুরে বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
—– মুমতাহিনা প্রমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares