ইলেকট্রিক গাড়ি !

Sharing is caring!

রাস্তায় নামলেই নানা ধরণের নানা রকমের গাড়ী দেখতে পাই, বর্তমানে গাড়ীর সংখ্যা এতই বেড়ে গেছে যে উন্নত বিশ্বে প্রায় প্রতিটি মানুষ গাড়ি ব্যবহার করে থাকে । প্রযুক্তি দিন কে দিন অগ্রসর হচ্ছে। পযুক্তির কল্যানে গাড়ি এখন সকলের নাগালের মধ্যে। ৬০ এর দশকে ছোট সাইজের জাপানিজ টয়োটা , দাস্তান আর জার্মানীর ভলসওয়াগনের এর ব্যবহার ব্যাপক হারে জনপ্রিয়তা পায়। এরই কাউনটার রেস্পনস হিসাবে ১৯৭১-১৯৮০ –এই সময়কালে ফোর্ড মোটর কোম্পানি ফোর্ড পিনটো নামে খুবই খুবই লাইট ওয়েটের, আরামদায়ক আর তুলনামুলক কম মুল্যের একটা টু-ডোর সিডান বাজারজাত করে । ১৯৭১ সালে এটি মার্কেটে আসার পর থেকেই কাস্টমারদের কাছে এর চাহিদা ছিল আকাশচুম্বি ।

১৮ শতক থেকে বর্তমান অবধি বহু গাড়ী রাস্তা নেমেছে নজরকাড়া ডিজাইন ,মাইলেজ, স্পিড ইত্যাদি। ফলশ্রুতিতে মানুষ স্টাইলিশ গাড়ীর প্রতি ঝুকে পড়েছে , গাড়ী নির্মাতারাও গ্রাহকের চাহিদা বিবেচনা নিত্যনতুন গাড়ী বাজারে ছাড়ছে অবশ্যই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত করে যাতে তার গাড়ীটা বাজারের আর সকল গাড়ীর সাথে টিকে থাকতে পারে।

সর্বপ্রথম ১৮৩৭ সালে প্রথম ইলেকট্রিক কার উৎপাদিত হয়।ইলেকট্রিক কার বলতে যা বুঝায় তা হল গাড়ীটিতে ইলেকট্রিক সাপ্লাই দেওয়া হবে, সেটি ব্যাটারির মাধ্যমে সঞ্চয় করে মটর চালাবে,যার সাথে চাকা কানেক্ট করা থাকবে ফলে মটরের ঘূর্ণনের ফলে চাকা ঘুরবে ফলে, মটরের কারণেই গাড়িটি চলতে শুরু করবে, ফলে এতে ক্লাচ,গিয়ারবক্স অথবা এগজস্ট পাইপের কোন দরকার ই পড়ছে নাহ। মানে হল মোটরটি ব্যাটারির সঞ্চিত চার্জ কাজে লাগিয়ে কাজ করবে। এর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ব্যাটারি চার্জ করতে হবে স্পেশাল চার্জিং পয়েন্ট এ যুক্ত করে।ব্যাটারিটি অবশ্যই রিচার্জেবল হতে হবে।

ইলেকট্রিক গাড়ির কিছু ভাগ :

১.ব্যাটারি চালিতঃ

এটি একমাত্র সত্যিকার অর্থে ইলেকট্রিক ভেহিকল, কেননা ব্যাটারি চার্জ এর মাধ্যমেই এর যাত্রা সম্পন্ন হয়, সেকেন্ডারি কোন ফুয়েল অপশন নেই এতে।ব্যাটারি ধারণক্ষমতা সাধারণত বেশী হয় এতে এবং ব্যাটারিটি মোটরটি চালিয়ে থাকে।

২.হাইব্রিড ইলেকট্রিক কারঃ

এতে দুইধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেমন এটি গ্যাসোলিনেও চলতে পারবে আবার ব্যাটারির চার্জেও চলতে পারবে।এতে গতানুগতিক ধারার একটি ফুয়েল ইঞ্জিন সহ অন্যান্য অংশ থাকবে এবং সাথে ব্যাটারিসহ ইলেকট্রিক মোটর ।এখানে যেকোনো একটি প্রাইমারি হিসেবে কাজ করে, হয় ব্যাটারি ক্যাপাসিটি বেশী হবে এবং ইঞ্জিন সাইজ ছোট হবে নতুবা এর বিপরীত, এর উপর ভিত্তি করেই গাড়ির ম্পডেল বানানো হয়ে থাকে।

সাধারণত এসব ক্ষেত্রে জ্বালানি থাকেই, সাথে অল্টারনেটরের কিংবা রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এর মাধ্যমেই ইলেক্ট্রিক এনার্জির ব্যবস্থা করা থাকে।রিজেনারেটিভ ব্রেকিং এর মানে হল গাড়ীটি চলতে চলতে ব্রেক করবে তখন এর মোটরটি ঘর্ষনজনিত বলের প্রভাবে অল্টারনেটর হিসেবে কাজ করবে।

৩. প্লাগ ইন হাইব্রিড ইলেক্ট্রিক ভেহিকলঃ

এখানে অধিক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মোটর এবং ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এবং কম শক্তিশালী ফুয়েল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, ইঞ্জিন তখন ই ব্যবহার করা হয় যখন ব্যাটারির চার্জ শেষের দিকে কিংবা অনেক পাওয়ার জেনারেট করার প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে প্রায় সব গাড়ী নির্মাতা কোম্পানি ইলেকট্রিক কারের প্রতি ঝুকে পড়েছে এবং ফুয়েল চালিত গাড়ী নির্মাণ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিচ্ছে।২০২৬ সাল নাগাদ ইউরোপে প্রায় সকল গাড়ী ইলেকট্রিক হয়ে যেবে।

২০১৮ এর সেরা কিছু ইলেকট্রিক গাড়ী ঃ

Kia Soul EV.
BMW i3.Nissan Leaf.
Volkswagen e-Golf.
Tesla Model.
Hyundai Ioniq EV.
Tesla Model S.
Chevrolet Bolt EV
মিসঃ আইভি রাহমান

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares