আফগানিস্তানের করুণ ট্রাফিক ব্যবস্থা I

Sharing is caring!

আফগানিস্তানের পরিবহন ব্যবস্থা খুব সীমিত এবং উন্নয়নশীল পর্যায়ে।দেশের বেশিরভাগ রাস্তা ১৯৬০ সালের দিকে নির্মিত হয়েছিল কিন্তু ১৯৮০ এবং ৯০ এর যুদ্ধের সময় সেগুলো প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়।প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে ভ্রমণের পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে সহায়তা করার জন্য গত কয়েক বছরে নতুন মহাসড়ক, সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মিত করা হয়েছে।২০০৪ সালে দেশে প্রায় ৭৩১,৬০৭ টি গাড়ি ছিল।যা বর্তমানে অল্প সংখ্যক।

ভূমিহীন আফগানিস্তানে কোন সমুদ্রবন্দর নেই তবে আমু দারিয়া নদী, যা তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সাথে দেশের সীমান্তের অংশ হিসাবে আছে।বিমানবন্দর, রাস্তা এবং রেল ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। দেশের প্রায় ৪৩ টি বিমানবন্দর রয়েছে তবে হেলিপোর্টগুলির সংখ্যা অনেক কম।

আফগানিস্তানের রাস্তা:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় ১৯৬০ সালের দিকে বেশিরভাগ প্রধান সড়ক নির্মিত হয়েছিল।সোভিয়েতরা উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় আফগানিস্তানকে সংযুক্ত করে ১৯৬৪ সালে সালং পাসের মাধ্যমে একটি সড়ক ও সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছিলেন।হেরাট, কান্দাহার, গজনি, এবং কাবুলের প্রধান শহরগুলির সাথে সংযোগকারী একটি হাইওয়ে পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানের হাইওয়েগুলির লিঙ্কগুলির সাথে প্রাথমিক রাস্তা গুলো সংযুক্ত।আফগান সরকার ১০ বছরেরও বেশি বয়সের গাড়ির আমদানি নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করেছে।যা বর্তমানে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েছে।

আফগানিস্তানের রাস্তার সমস্যা,

আফগানিস্তানের বিভিন্ন রাস্তায় প্রায় সময় ডাকাতি হয় এবং এই প্রবণতা খুব বেশি সেখানে।সেখানে দুর্ঘটনা প্রায় সময় ঘটে এবং তা খুব স্বাভাবিক তাদের কাছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে রাস্তা খুব বিপজ্জনক।আফগানিস্তানে বাস সেবা চলে বেশি,যেকোন জায়গায় যেতে হলে বাসের মাধ্যমেই যাতায়াত করে সাধারন নাগরিক।

হাইওয়ে সিস্টেম বর্তমানে একটি পুনর্গঠন ফেজ মাধ্যমে যাচ্ছে।বেশিরভাগ সড়ক মেরামত বা উন্নত করা হচ্ছে।গত ৩০ বছর ধরে, আফগান পরিবহন ও যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলির মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং তাদের অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছে।যার দরুন বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।আফগানিস্তান সাধারনত যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ।তাদের অর্থনৈতিক সমস্যার কারনে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে।তাছাড়া তাদের রাস্তা বা দূরবর্তী কোন জায়গায় যাওয়া অনেকটা বিপদজ্জনক।বিভিন্ন সময় ডাকাতি হয় এবং মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত এসব কারনে বিপদে পড়ছে।

আফগানিস্তানের ট্রাফিক নিয়ম ,

আফগানিস্তানে গাড়ি রাস্তার ডান পাশে চলে এবং ড্রাইভিং করার বয়স ১৮ বছর থেকে শুরু হয়।সাধারন মানুষ নিজের গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হলে তা অবশ্যই ট্রাফিক প্রশাসনের নিবন্ধন অফিস থেকে অনুমতি নিতে হবে।গাড়ির লাইসেন্স এবং অন্য সকল কাগজপত্র সাথে নিয়ে বের হওয়ার নিয়ম।মদ্যপান করে গাড়ি চালানো যাবে না তার জন্য জরিমানা কর হয়।যেকোন এলাকায় গাড়ি চালানোর গতি সীমা ৫০ কি.মি. কিন্তু এর বেশি মাত্রায় গাড়ি চালালে জরিমানা এবং কারাদন্ড হতে পারে।

ড্রাইভিং করার সময় অবশ্যই বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে।এই সময় মাদকদ্রব্য, মাতাল, অসুস্থতা, ক্লান্তি, এবং ঘুমের অবস্থার মধ্যে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।নিজের ছাড়া অন্য কারো গাড়ি চালানোর নিয়ম নেই,তবে মালিকের অনুমতিপত্র নিয়ে কোন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে পারে।বাইক যদি কোন ব্যক্তির থাকে তাহলে তা অবশ্যই বীমা করতে হবে যা বাধ্যতামূলক এবং বিদেশী ব্যক্তি হলেও বীমা করতে হবে।মালিক বা ড্রাইভারকে রেজিস্ট্রেশন এবং পারমিট এবং আইনি নম্বর প্লেট ছাড়া গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না।

আফগানিস্তানের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবস্থা নেই যার কারনে তাদের ট্রাফিক সিস্টেম এখনও প্রায় ১০০ বছর পিছিয়ে আছে।যার দরুন নতুন প্রজন্মদেরও ভুগতে হচ্ছে।আর যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ হওয়ার কারনে প্রতিনিয়ত রাস্তাগুলোর ক্ষতি হচ্ছে।সাধারন মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।নতুন আইন করার কোন উপায় পাচ্ছে না যার কারনে আগের সকল নিয়ম মেনেই চলতে হচ্ছে যা সময় উপযোগী না।

 

— মুমতাহিনা প্রমি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares